ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে আটকে থাকা ভেনিজুয়েলার স্বর্ণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেয়ার পর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) সুরক্ষিত ভল্টে থাকা দেশটির বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেয়ার পর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) সুরক্ষিত ভল্টে থাকা দেশটির বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক টানাপড়েনের মধ্যে মূল্যবান ধাতুর এ রিজার্ভ নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা ভেনিজুয়েলার স্বর্ণের বর্তমান মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ভেনিজুয়েলার প্রায় ৩১ টন স্বর্ণ বিওইর ভল্টে রাখা আছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বর্ণের এ মজুদ লন্ডনে সংরক্ষণ করে আসছে দেশটি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালে ভেনিজুয়েলার স্বর্ণের মূল্য ছিল প্রায় ১৯৫ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় বর্তমানে এর প্রকৃত মূল্য আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এ স্বর্ণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ওই বছর ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দেয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অনেক দেশ নিকোলাস মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এর পরই ভেনিজুয়েলাকে স্বর্ণ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় বিওই।

ভেনিজুয়েলার তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, মাদুরোর সরকার স্বর্ণ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপও এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। এর জেরে ২০২০ সালে মাদুরো সরকার লন্ডনের আদালতে মামলা করে এবং কভিড-১৯ মোকাবেলায় অর্থের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে যখন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাজ্য। এতে কয়েক বছর ধরে আদালতে একের পর এক শুনানি ও আপিল চলতে থাকে। বর্তমানে গুয়াইদোর স্বীকৃতি না থাকলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার আবারো স্বর্ণ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। তারা বিওইর অবস্থানকে অন্যায্য বলে উল্লেখ করেছে। তবে যুক্তরাজ্য বলছে, বিষয়টি আইন ও গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে যুক্ত।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে চাপ বজায় রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘স্বর্ণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

বিশ্ব রাজনীতিতে ভিন্ন দেশের ভল্টে স্বর্ণ মজুদ নিয়ে বিপত্তির ঘটনা নতুন নয়। রাশিয়া ও ইরানসহ কয়েকটি দেশের বৈদেশিক সম্পদও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। ফলে অনেক দেশ রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে এখন বিদেশে রাখা স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে।

আপাতত ভেনিজুয়েলার স্বর্ণ লন্ডনের ভল্টেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ স্বর্ণ এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও ক্ষমতার জটিল সম্পর্কের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও